দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২৪ বছর ধরে পিছিয়ে পড়ে আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি ব্রাজিল। জাপানের বিপক্ষে সেই ইতিহাসই বদলে দিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধে জাপানের কাছে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে। কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলের পর ইনজুরি সময়ের শেষ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে নিশ্চিত হয় সেলেসাওদের কোয়ার্টার ফাইনাল।
এর মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও জয় পেল ব্রাজিল। এর আগে সর্বশেষ এমন কীর্তি গড়েছিল ২০০২ সালের ২১ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে। ওই ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিভালদো ও রোনালদিনহোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রতিপক্ষ প্রথম গোল করার পর ব্রাজিলের এটি ১৪তম জয়। এর মধ্যে সাতটি এসেছে গ্রুপ পর্বে এবং বাকি সাতটি নকআউট বা প্রথম রাউন্ড-পরবর্তী ম্যাচে। তবে ১৯৩৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাদ দিলে শিরোপা বা পরবর্তী ধাপে ওঠার লড়াইয়ে এটি ছিল ব্রাজিলের ষষ্ঠ সফল প্রত্যাবর্তন।
ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার মধ্যে দুটি এসেছে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেন শুরুতে এগিয়ে গেলেও ভাভা, পেলে ও মারিও জাগালোর গোলে ৫-২ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল। চার বছর পর ১৯৬২ সালের ফাইনালেও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে সেলেসাওরা।
ইতিহাস বলছে, ব্রাজিলের প্রথম প্রত্যাবর্তনের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৩৮ বিশ্বকাপে। এরপর ১৯৭০ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়া ও উরুগুয়ের বিপক্ষে এবং ১৯৮২ বিশ্বকাপে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও পিছিয়ে পড়ে জয় পেয়েছিল তারা।
তবে ২০০২ সালে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউটে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ব্রাজিল। যদিও ২০০৬ সালে জাপান এবং ২০১৪ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছিল তারা।
অন্যদিকে, ২০০২ সালের পর নকআউটে প্রথম গোল হজম করার তিনটি ম্যাচেই হেরে যায় ব্রাজিল। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে জার্মানি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই হতাশার স্মৃতি ছিল তাদের।
জাপানের বিপক্ষে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে ব্রাজিল। সানোর গোলে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো সমতা ফেরান। এরপর ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে মার্তিনেল্লির গোলে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
জে আই